অবকাঠামোতে নয়, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী তৈরিতে বিনিয়োগ জরুরি
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা
বর্তমান পরিস্িথতিতে দেশে স্বাস্থ্য অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের কোনো প্রয়োজন নেই। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দরকার প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট আইন-কানুন ও বিধিবিধানের সংস্কার প্রয়োজন।
গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. এ এম এম শওকত আলী স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি গবেষণা বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. এ এম এম শওকত আলী বলেন, দেশের জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য অবকাঠামো সন্তোষজনক। কিন্তু সেখানে চিকিৎসক, নার্স ও প্রশিক্ষিত অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, বিনিয়োগ বাড়ালেই বা দাতাদের অর্থ গ্রহণ করলেই স্বাস্েথ্যর উন্নতি হবে−এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। বর্তমান পরিস্িথতিতে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী তৈরির ওপর জোর দিতে হবে।
নাগরিক সমাজের সংগঠন ‘বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ’ দেশের স্বাস্থ্য পরিস্িথতি নিয়ে ২০০৭ সালের প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ−আইসিডিডিআরবিতে গতকাল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ। এই প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য খাতের জনবলের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। পরিসংখ্যান সম্পর্কে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘পরিসংখ্যান হচ্ছে প্রসাধনীর মতো, যা প্রকৃত সত্য গোপন করে।’
গবেষণা প্রতিবেদনের মূল তথ্য উপস্থাপন করেন আইসিডিডিআরবির সমাজ ও আচরণ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আব্বাস ভুঁইয়া। তিনি বলেন, দেশে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য ১৪৬ জন স্বাস্থ্যসেবা দেন। তাঁদের মধ্যে আছেন নিবন্ধনকৃত ডাক্তার, নার্স ও দন্ত চিকিৎসক (৭.৭ শতাংশ), হোমিওপ্যাথি ডাক্তার (৫.৯), সনাতন চিকিৎসক (৬৪.২), ওষুধ বিক্রেতা (১১.৪), পল্লী চিকিৎসক (১২.৫), সনাতন ধাত্রী (৩৩.২), স্বাস্থ্যসেবিকা (৯.৬), প্যারামেডিক (১) এবং অন্যান্য (০.৯ শতাংশ)। সবচেয়ে বড় জায়গাটি দখল করে আছে সনাতন চিকিৎসকেরা, যাঁদের মধ্যে আছেন কবিরাজ, টোটকা, ভেষজ ও বিশ্বাসভিত্তিক চিকিৎসক। দেশে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা দানকারীরা মাত্র ২০ শতাংশ মানুষের সেবা দেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি স্বাস্থ্যসচিব এ কে এম জাফর উল্লাহ খান বলেন, সারা দেশে চিকিৎসক ও নার্সের মারাত্মক সংকট রয়েছে। তিনি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৪৮ শতাংশ, জেলা হাসপাতালে ২৫ শতাংশ এবং তৃতীয় স্তরের বিশেষায়িত হাসপাতালে ১০ শতাংশ চিকিৎসকের পদ খালি। অন্যদিকে সারা দেশে ১২ শতাংশ নার্সের পদ খালি আছে।
অন্য বিশেষ অতিথি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহকারী মহাসচিব ড. টিমোথি ইভানস বলেন, সমাজ ও মানুষ সচেতন হলে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হয়। তিনি বলেন, স্বাস্েথ্যর উন্নতির জন্য কোনো একটি রোগের ওপর পৃথকভাবে জোর না নিয়ে সমন্বিত কর্মসুচি গ্রহণ করা দরকার।
ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হোসেন আবেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির মহাসচিব ড. হালিদা হানুম আখতার।